কীভাবে গড়ে তুলবেন, ধরে রাখবেন দু’জনের সম্পর্ক?

TABLE OF CONTENTS

বন্ধুত্ব, বিয়ে বা একসাথে থাকা – যা-ই হোক, দুজন মানুষের মধ্যে একটি সম্পর্ক হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক জিনিসগুলোর একটি।

একটা সম্পর্ক কি ভাবে গড়ে ওঠে এর কোন বাঁধাধরা ফর্মূলা নেই।

তবে কিভাবে একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, বা টিকিয়ে রাখা যায় – তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ থেকে তো আমরা লাভবান হতেই পারি।

ঝগড়া ঝাঁটি সংঘাতকে ভয় পাবেন না

ঝগড়া-সংঘাত-বিবাদকে আপনি কিভাবে মোকাবিলা করছেন সেটাই আসল কথা। নিজের স্বাতন্ত্র্যকে প্রকাশ করতে গেলে কিছু মতপার্থক্য হতেই পারে। কিন্তু বন্ধুত্ব বা সম্পর্কের মধ্যেএরকম সংঘাত যে খুব খারাপ জিনিস তা সবসময় ঠিক নয়। অনেক সময়ই দুজনের মধ্যেকার ভিন্নতা সম্পর্ককে আরো মজবুত করে।

নিজের স্বাতন্ত্র্যকে টিকিয়ে রাখুন-

নিজের জন্য কিছু সময় রাখা এবং আপনার সঙ্গীকে তার নিজের একটা জায়গা দেয়া (পার্সোনাল স্পেস) খুবই গুরুত্বপূর্ণ । আপনার নিজের শখ. আগ্রহের জায়গাগুলো ধরে রাখুন। আপনার কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হারিয়ে যেতে দেবেন না। কিছু সময় আলাদা কাটান। তাহলে একে অপরের সাথে যে সময়টা কাটাবেন তা মধুর হয়ে উঠবে। একে অপরকে এড়িয়ে চলা নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর এবং পরিণত সম্পর্ক গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ন।

দু’জনে মিলে আনন্দ করুন-

আপনাদের সম্পর্ক মানে শুধু একসাথে বাজারে যাওয়া আর ঘরদোরের আবর্জনা পরিষ্কার রাখা নয়। কিছু সময় রাখুন একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করার জন্য, উত্তেজনাপূর্ণ কিছু করার জন্য, সেটাএকসাথে খেতে যাওয়াই হোক, কোথাও বেড়াতে যাওয়াই হোক বা বিছানায় একটা অলস সকাল কাটানোই হোক।

দু‘জনের যোগাযোগ হতে হবে স্পষ্ট, পরিষ্কার করে জানান আপনি কি বলতে চান-

অনেক তর্কাতর্কিই হয় শুধু একটি কারণে – ভুল বোঝাবুঝি। এই বিরক্তি, হতাশা এবং ঝগড়া এড়াতে হলে নিজের যা বলবার – সেই কথাটা পরিষ্কার করে বলুন। সন্দেহ থাকলে মুখোমুখি কথা বলুন, বা স্কাইপ/ফেসটাইম ব্যবহার করুন।

এই একজনই আমার ‘সবকিছু’ – এমন চিন্তা বাদ দিন

আমরা স্বামী বা স্ত্রী, বা সঙ্গীর ওপর অনেক সময়ই অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করি। আমরা চাই, সে হবে আমার ক্রাচের মতো – আমার সমস্যার সময় আমি যার ওপর ভর করে চলবো। আরো চাই যে ‘সে’ হবে আমার প্রেমিক, বন্ধু, সহগামী, গোপন কথা বলার লোক, এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতাও দেবে সে। এর কোনো একটাতে সে ব্যর্থ হলেই আমরা পুরো সম্পর্ক নিয়েই প্রশ্ন তুলে বসি। আসলে তা নয়। স্বামী বা স্ত্রী বা জীবনসঙ্গী – নিশ্চয়ই একজনের মূল সম্পর্ক, কিন্ত ‘একমাত্র’ নয়। এটা বোঝা দরকার কখন আপনি একজন বন্ধুর কাছে যাবেন, কখন পরিবারের একজনের কাছে যাবেন, কোনো কারণে কাঁদতে হলে কার কাঁধে মাথা রাখবেন। সবকিছুর জন্যে পার্টনারকে কাজে লাগাবেন – এমন আশা করবেন না।

সুন্দর মুহূর্তগুলো উদযাপন করুন

জীবন সব সময়ই আনন্দের নয়, কঠিন মুহূর্ত সবারই আসে। সুতরাং যখন আনন্দের সুযোগ আসে, তখন তা উদযাপন করুন । আপনার বন্ধুর সন্তান হলে, বা সঙ্গীর পদোন্নতি হলে আনন্দ উৎসবের আয়োজন করুন। এসব আপনাদের পরস্পরের আরো কাছাকাছি আসার জন্য সহায়ক হয়, খারাপ সময়গুলো পার হয়ে যাওয়া সহজ হয়।

নিজের দুশ্চিন্তা, ভয়গুলো শেয়ার করুন

ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে হলে নিজেকে উন্মুক্ত করতে হয়। আপনি যদি আপনার দুর্বলতা, ভয়, দুশ্চিন্তাগুলো অপরজনকে জানতে দেন, তার সহায়তা চান, – তাহলে অন্যজনও তাই করবে। একজন গবেষক বলেছেন. “হাজার হাজার লোকের সাক্ষাতকার নিয়ে আমি এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছেছি যে – পরস্পরের দুর্বলতাগুলো বিনিময় না করলে কখনো শারীরিক-মানসিক-আত্মিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় না।

‘আমি কি আমার স্বপ্নের মানুষকে পেয়েছি?’ – এরকম ভাবনা নিয়ে হয়রান হবেন না

এসব কথা আজকালকার যুগে খুব চালু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আধুনিক মানুষ এ ভাবনা নিয়ে হয়রান হয়, সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে যে – “এত মানুষকে আমি চিনি, যে কিভাবে জানবো, আমি যাকে খুঁজছি তাকে পেয়েছি কিনা ।” সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এসথার পেরেল বলছেন, সত্যি কথা হচ্ছে যে আসলে এটা জানা অসম্ভব। আমাদের মনে রাখতে হবে যে স্বপ্নের সেই ‘এক এবং অদ্বিতীয়’ বলে কেউ নেই। আছে একজনই – যাকে আপনি বেছে নিয়েছেন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য। তার সাথে কেমন সম্পর্ক আপনি গড়ে তুলতে পারলেন – সেটাই আসল কথা। আপনি কি তার সাথে মানিয়ে চলতে পারছেন? আপনি কি সম্পর্কটি রক্ষা এবং বিকাশের জন্য কাজ করছেন? নিজেকে এ প্রশ্ন করুন।

(মূল লেখা-সংগ্রহীত)

তবে , কখনো যদি মনে হয়, দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা ঠিক ভালো যাচ্ছেনা, দিনেদিনে মানসিক, আবেগীয় এবং শারীরিক দুরুত্ব বেড়েই চলছে। নিজেরা অনেকবার চেষ্টা করেও যেন কোন লাভ হচ্ছেনা। তখন, অবশ্যই সাইকিয়াট্রিস্ট অথবা সাইকোলজিস্ট দেখানো উচিৎ ।কারন, শরীর ও মনের রোগের মত সম্পর্কেও রোগ হতে পারে, আবার, অনেক মানসিক ও শারীরিক সমস্যাও পুষে রাখলে তা সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ বিস্তারিত আলাপ করে আপনাদের সহযোগীতা করতে পারেন। এবং প্রয়োজনীয় শারীরিক, মানসিক ও সেক্সুয়াল সমস্যার সমাধান দিতে পারেন।

Related Posts

a-minimalistic-digital-illustration-of-a_TVhTH27zQc2XRzb6Wjic2A_YLOurbf8QheKRTypYh9g2g
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়ার কার্যকর উপায়: প্রমাণভিত্তিক ডিপ্রেশন চিকিৎসা
পরিচিতি রাশিদা, ৩২ বছর বয়সী একজন স্কুল শিক্ষিকা, কয়েক মাস ধরে নিজের জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন।...
Read More
65415927_10220002121871907_7213625086639603712_n
স্মার্টফোন ও সেলফি আসক্তি
স্মার্টফোন আসক্তি আজকাল বিভিন্ন ব্লগ, প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা থেকে জানতে পারছি, স্মার্টফোনের মাত্রাতিরিক্ত...
Read More
S20223
দুঃশ্চিন্তার চিকিৎসা
বাস্তব জীবনের দুইটি পরিচিত দৃশ্য এক. মেধাবী ছাত্রী সোহানার সামনে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা। করোনা পরিস্থিতির...
Read More
d20221
বিপদগ্রস্থ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা, না আসাঃ একটি মনো-সামাজিক বিশ্লেষণ।
ঘটনাটি কেমন ছিল? ধরা যাক, জনাকীর্ণ কোনো জায়গায় কয়েকজন মিলে একজন ব্যক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আক্রান্ত...
Read More
A20225
মানসিকচাপ এড়াতে মাদকাসক্তি : কতটুকু সত্যি? নিয়ন্ত্রণের উপায়
আমরা কেন মাদক গ্রহণ করি? মানব সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ বিভিন্ন উত্তেজক বা মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে আসছে।...
Read More
Hysteria
হিস্টেরিয়াঃ অতীত থেকে বর্তমান, এখনো যে রোগ বুঝতে ও চিকিৎসা দিতে ভুল হয়।
একটি ভয়ের রাত – সোহানা (১৬) হঠাৎ নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। বুক চাপড়ানো, অজ্ঞান হয়ে পড়ে...
Read More
Scroll to Top