স্মার্টফোন আসক্তি
আজকাল বিভিন্ন ব্লগ, প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা থেকে জানতে পারছি, স্মার্টফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও আধ্যাত্মিক জীবনে কত খারাপ প্রভাব ফেলছে! এমনকি বিজ্ঞানীরা এখন এই বিষয়কে গণস্বাস্থ্যের সচেতনতার একটি অংশ হিসেবে দেখেছেন। পশ্চিমা বিশ্ব স্মার্টফোন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার খুলেছে, যেন মানুষ এই আসক্তি থেকে মুক্ত থাকতে পারে। পত্র-পত্রিকায় নানাভাবে দেখানো হচ্ছে কীভাবে স্মার্টফোনের পরিমিত ব্যবহার করা যায়। যদিও পাশেই দেখা যায়, একটা প্রলোভনযুক্ত বিজ্ঞাপন থাকে, হয় স্মার্টফোনের কিংবা আরেকটি তথ্যপ্রযুক্তির গ্যাজেটের। ফলে এই আসক্তি থেকে মুক্ত থাকাটাও অনেক সময় আর হয়ে ওঠে না। চেষ্টা করলে মনে হয় ড্রাগের আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়া যায়, কেননা একটা পরিবারে হয়তো একজনই ড্রাগে আসক্ত। কিন্তু সেলফোন–স্মার্টফোন আসক্তিতে সবাইই কি ভুগছি না?

সেলফি আসক্তি
নিজেই নিজের ছবি তোলা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের খুব পছন্দের কাজ এটি। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, যারা অতিরিক্ত সেলফি তোলে তারা সেলফিটিস রোগে আক্রান্ত
সেলফিতে তোলা ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতে থাকলে ব্যক্তিত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, বলছেন তারা। ইন্টারনেশন্যাল জার্নাল অব মেন্টাল হেল্থ অ্যান্ড অ্যাডিকশনে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে যারা সেলফি তোলায় আসক্ত তাদের এই রোগের রোগী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন এটিকে মানসিক রোগ হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও এমন চর্চাকে গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবেই দেখছেন। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডক্টর রামানি দুর্ভাসুলা জানান যখন কেউ দিনে কয়েকবার সেলফি তোলে এবং সেগুলো ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট বা ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন তখন তাকে সেলফি আসক্ত বলা হয়। তিনি আরও বলেন, যদি কারো মোট ছবির অর্ধেকই হয় সেলফি এবং সেসব ছবির জন্য ফিল্টার ব্যবহার করে তবে সেটা তার জন্য ভাল কিছু বয়ে আনে না। সেলফিটিস রোগ থেকে বাঁচতে মোবাইল ফোন কোথাও রেখে দিয়ে সেলফি মুক্ত এলাকায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দুর্ভাসুলা। অন্য কেউ যদি এ রোগে আসক্ত হয় তাহলে তার ছবিতে লাইক বা ইতিবাচক মন্তব্য না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।





